মাহির ছিল গ্রামের এক সাদামাটা যুবক। দিনে কৃষিকাজ, রাতে মা-বাবার সেবা—এই নিয়েই তার জীবনের গল্প। ছোটবেলা থেকেই মসজিদে যেতে শুনতো, "আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো ভাঙা অন্তর আর চোখের অশ্রু।" কিন্তু জীবনের দৌড়ঝাঁপে সে কথাগুলো কখনো গভীরভাবে ভাবা হয়নি।
একদিন গভীর রাতে, মাহির মসজিদের বারান্দায় বসে চাঁদের আলোয় নিজের জীবনের হিসাব করছিল। কতদিন সে নামাজ পড়তে গাফিল ছিল, কতবার মিথ্যা কথা বলেছে, কত মানুষকে কষ্ট দিয়েছে! হঠাৎ তার চোখ দিয়ে অজান্তেই অশ্রু ঝরতে লাগল। এক ফোটা, দুই ফোটা… তারপর আর থামলো না।
মাহির ভাবলো, "হে আল্লাহ! তুমিই তো পরম দয়ালু। আমার এত পাপ তুমি কি ক্ষমা করবে?"
অশ্রুভেজা চোখে সে সিজদায় পড়ে গেল। তার সমস্ত অহংকার, কৃত্রিম মুখোশ ভেঙে চূর্ণ হলো সেই রাতে। মাহির বুকের গভীরে যে পাথরের মতো ভার ছিল, অশ্রুর স্রোতে ধুয়ে যেতে লাগল।
রাতে যখন সে ঘুমাতে গেল, তার হৃদয় যেন অদ্ভুত এক প্রশান্তিতে ভরে গেল। মনে হলো, আল্লাহ তাকে মাফ করে দিয়েছেন। সে রাতে মাহির এক অপূর্ব স্বপ্ন হলো—এক উজ্জ্বল বাগান, যেখানে ঝরনা বয়ে চলেছে, ফুলের সুবাসে ভরপুর। একজন ফেরেশতা বললেন, "এই পথ সেই জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে, যেটা এক ফোটা চোখের পানির বিনিময়ে তুমি পেয়ে গেছ।"
ভোরে উঠে মাহির পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে গেল। সেইদিন থেকে সে আর কোনো নামাজ ছাড়ল না, মিথ্যা বলল না, মানুষের উপকার করতে ব্যস্ত হয়ে গেল। গ্রামে সবাই অবাক হয়ে তার পরিবর্তন দেখল। মানুষ তাকে বলত, "মাহির ভাই, আপনি তো জান্নাতের রাস্তা পেয়ে গেছেন!"
মাহির হাসত, আর বলত, "জান্নাতের রাস্তা পেতে বড় কিছু দরকার হয় না। এক ফোটা চোখের পানি, একটুকু অনুতাপ, আর আল্লাহর দরজায় সঠিকভাবে ফিরে আসা—এটাই যথেষ্ট।"
🌸 গল্পের শিক্ষা
আল্লাহ তাআলা আমাদের অনুতাপের অশ্রু অত্যন্ত ভালোবাসেন।
কোনো পাপই এত বড় নয় যে ক্ষমা হবে না, যদি আমরা খাঁটি অন্তর দিয়ে ক্ষমা চাই।
জান্নাতের পথ খুব সহজ—সত্যিকারের তওবা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে।
💧 এক ফোটা চোখের পানি—যেটি আসে আল্লাহর ভয় থেকে—হাজার রাকাত নফল ইবাদতের চেয়েও দামী।
